দালালের দৌরাত্ম্য আর রমরমা সার্টিফিকেট বাণিজ্য নোয়াখালী হাসপাতালে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২২, ১০:২১

রোগীদের সঙ্গে অসদাচারণ, দালালদের উৎপাতসহ নানা অবস্থাপনার অভিযোগ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল। সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে আরএমও'র বিরুদ্ধে। জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের এমন অব্যবস্থাপনায় সেবাবঞ্চিত লাখো মানুষ।

নোয়াখালী সদর হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডবয় ও কর্মচারীদের কারণে রোগীর জন্য বেড পাওয়ার পর ঝগড়া-মারামারি ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

হাসপাতালের ভেতরে যততত্র রাখা হয় যানবাহন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হয় আবর্জনা। আছে দালালের দৌরাত্ম্যসহ নানা অব্যবস্থাপনার গল্প।

একজন রোগীর স্বজন বলেন, আমরা সিট চেয়েছি আমাদের কাছে টাকা চায়। আমরা এখানে ভর্তির দিন ১৪০০-১৬০০ টাকা দিয়েছি। এরপরও আমাদের কোনও সহযোগিতা করেনি। আরেকজন বলেন, খাওয়া-দাওয়া কিছুই দেয় না। তারা লিখে দেয় বাইরে থেকে চিকিৎসা করার জন্য।

আবাসিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থের বিনিময়ে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ। যার প্রমাণও মেলে হাতেনাতে।

এমন একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমরা প্রতিপক্ষের নামে মামলা করবো তার জন্য সার্টিফিকেট লাগবে। কিন্তু উনি দিতে চায় না। আরেকজন বলেন, এখান থেকে সার্টিফিকেট আনতে গেলে তিনি আমাকে ১০-১২ দিন ঘুরানোর পর ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট পাই।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, এটা সঠিক নয়। এখনকার সিস্টেম হলো মামলা হওয়ার পর পুলিশ রিকুইজিশন নেবে। পাবলিকের সঙ্গে আমার কোনও কানেকশন নেই। এখন মামলার যে ধরণ তাতে পাবলিক আসে নিজের স্বার্থের জন্য। আমি ওই জিনিস দেখি না।

আর লোকবল সংকটসহ নানা অজুহাতের বুলি তত্ত্বাবধায়কের। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দেড়শ শয্যার লোকবল সেখানে আড়াইশো শয্যার চাইতেই বেশি লোকজন। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ আমরা যতটুকু পারছি তত্ত্বাবধায়ন করছি। সামনে আরও জোরদার করবো ইনশাআল্লাহ।

নোয়াখালী সদর হাসপাতালে বর্হিঃবিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন দুই হাজারের বেশি রোগি। আর ভর্তি থাকেন অন্তত ৫শ জন।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ