আজকের শিরোনাম :

কালীগঞ্জে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নামকরা চোখের ডাক্তার মোস্তফা কামাল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:২২

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের গাজীর বাজারে অবস্থিত অন্তর ফার্মেসীতে চেম্বার করে চোখের রোগী দেখছেন একজন পল্লী চিকিৎসক। রাজশাহী থেকে আসা এই চিকিৎসকের নাম মোস্তফা কামাল। তিনি নিজেকে একজন চক্ষু চিকিৎসক এবং অপ্টোম ডাক্তার বলে দাবি করেন।

নামের শেষে হরেক রকম ডিগ্রি লাগালেও একজন চোখের চিকিৎসক হওয়ার জন্য যে যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার প্রয়োজন হয় তার কিছুই নেই তার। তবুও তিনি বড় চোখের ডাক্তার সেজে চমকপ্রদ প্রচার প্রচারণা চালিয়ে দিঘারপাড়া বাজারের সিদ্দিক ড্রাগ হাউস, গাজির বাজারে অন্তর ফার্মেসী ও চতুর বাড়িয়া বাজারের জামান মেডিসিন কর্ণার এ ১ শ টাকা ফিতে রোগী দেখছেন যথাক্রমে শনিবার,রবিবার ও সোমবার। 

এই ভুয়া ডাক্তার রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লিখছেন এন্টিবায়োটিক ঔষধ, দিচ্ছেন চোখের নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা, একই সাথে বিক্রি করছেন চশমা। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে সব মিলিয়ে মোটা অংকের একটা বাণিজ্য করে যাচ্ছেন তথাকথিত এই চক্ষু ডাক্তারসহ ফার্মেসী মালিকরা। 

এই সার্টিফিকেটবিহীন চক্ষু ডাক্তারের নিকট চোখ ফেখাতে আসা ৭০ বছর বয়সী নুরুল হুদার সাথে কথা হলে তিনি  জানান, আমার চোখে সমস্যা, কালীগঞ্জে যেয়ে ডাক্তার দেখাবো সে উপায় তো নেই। কারণ কালীগঞ্জে কোনো চোখের ডাক্তার বসে না। আমাগের এখানে এই ডাক্তার বসছে তাই তারেই চোখ দেখাতে আসলাম। চোখ দেখাতে আমাদের যশোর ঝিনাইদহ যাওয়া লাগে। কালীগঞ্জ হাসপাতালে একজন চোখের ডাক্তার হলে ভালো হতো।

সরোজমিনে গাজীরবাজারে তার চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, তিনি একের পর এক রোগী দেখে চলেছেন। প্রায় ১ শ রোগীর সিরিয়ালের মধ্যে দুপুর নাগাদ ৬৩ জন রোগী দেখে শেষও করেছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি জানানা, আমি চোখের প্রাথমিক চিকিৎসা করি। আমি অল্প টাকায় মানুষকে সেবা দেই। নিয়ম মেনেই আমি চেম্বার করছি। আমার চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু জানার থাকলে আপনি সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ডিএমএফ ডিগ্রিধারী কেউ ডাক্তার পরিচয়ে চেম্বার করে রোগী দেখতে পারবেন না। আর গাজীর বাজারে যিনি চোখের ডাক্তার পরিচয়ে রোগী দেখছেন তার যোগ্যতা যাচাই না করে তার ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। তবে আমি সেখানে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে অনিয়ম পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব তার বিরুদ্ধে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৪ লাখেরও অধিক লোকের জন্য নেই কোনো সরকারি চক্ষু চিকিৎসক। ফলে একদিকে যেমন এই উপজেলার চক্ষু রোগীদের সেবা নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অন্যদিকে মোস্তফা কামালের মতো নামসর্বস্ব সার্টিফিকেটবিহীন ডাক্তারদের অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ চোখের রোগীরা। তাই অতিসত্বর স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের এই সার্টিফিকেটবিহীন ভুয়া চক্ষু ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা করেন এলাকার সাধারণ জনগণ।

এবিএন/নয়ন খন্দকার/জসিম/আব্দুর রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ