চকবাজারে আগুন : অনুমোদন ছিল না ভবনটির

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৯:২৭ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৯:৩৩

দুই বছর আগে স’মিল ছিল পুরান ঢাকার চকবাজারের কামালবাগের চারতলা ভবনের স্থানে। সেখানে টিন শেডের একটি ঘর ছিল, আর ছিল একটি হোটেল। আশপাশের জায়গা ছিল ফাঁকা। দুই বছর আগে এ জায়গায় নির্মাণ হয় চারতলা ভবন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মো. রানা নামে একজন ওই ভবনের মালিক। তিনি ভবনটির নিচতলার উত্তর পাশ ভাড়া দেন বরিশাল হোটেলের মালিককে, অপরপাশে নিজে বসতেন। মাঝখানে ওয়ার্কশপের দোকান রয়েছে। ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও টিন শেড দিয়ে তৈরি করা চতুর্থ তলায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের খেলনার কারখানা ও গোডাউন রয়েছে। এই অংশের মালিক মো. নজরুল।

ভবনের উত্তর পাশের এক প্লাস্টিক কারাখানার কর্মকর্তা আহমেদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এক থেকে দেড় বছর আগে এ ভবন তৈরি করা হয়। ভবন নির্মাণের আগে এই স্থানে একটি স’মিল ছিল। এখানে কাঠ ভাঙানো হতো।

তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি জমির প্রকৃত মালিক থাকেন কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায়। তিনি কাউকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেননি। আমরাও তার কাছে লিজ নিয়ে এখানে ব্যবসা করছি। শুধু আমি না, এই গলির সবাই লিজ নিয়েই ব্যবসায় করছেন।

একই গলির মুদির দোকনদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভবন তৈরি করতে রাজউকের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু রাজউক এখানে ভবন তৈরি করতে অনমতি দেয়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি অনুমোদন না নিয়ে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নাম গোপন রাখার শর্তে এই গলির এক বাসিন্দা বলেন, এখানে ভবন তৈরি করতে সরকারের অনুমোদন লাগে না। নেতাদের খুশি করতে পারলেই সব ব্যবস্থা হয়ে যায়।

জানা গেছে, ঢাকা প্লাস্টিক নামে চারতলা ওই ভবনের মালিক চকবাজারের আলমের একজন। আলমের মৃত্যু পর তার ছেলে মো. রানা সব কিছুর দেখাশোনা করেন। ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও টিন শেড দিয়ে তৈরি করা চতুর্থ তলায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের খেলনার কারখানা এবং গোডাউন ছিল। এই গোডাউন ও কারখানার মালিক মো. নজরুল। দীর্ঘ দিন ধরে তিনটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে তিনি কারখানা ও গোডাউনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

চকবাজারের কামালবাগে প্লাস্টিক গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সবাই আগুন লাগা ওই ভবনের নিচ তলার বরিশাল হোটেলের স্টাফ। তাদের সবার পরিচয় জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিহতরা হলেন- ওহাব আলী ওসমান (২৫), বেল্লাল সরদার (৩৫), স্বপন সরকার (১৮), মোতালেব (১৬, শরীফ (১৬) ও রুবেল (২৮)।

এই মৃত্যুর ঘটনায় রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার পর পরই ভবন ও প্লাস্টিক গোডাউনের মালিক লাপাত্তা। শুধুমাত্র ভবনের নিচে থাকা বরিশাল হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ।

এবিএন/আব্দুর রাজ্জাক/জসিম/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ